বিন্দু ও বিসর্গ – ধারাবাহিক পাঠ, পর্ব -২

0
1166

প্রথম থেকেই হয়তো মানব সভ্যতার মধ্যে একটা বিষয় কাজ করেছে যেটা ডারউইন বলছেন “সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট”। এই সারভাইভালের মধ্যে একটা বিষয় হয়তো কাজ করে তাদের মধ্যে যে আমি বাকিদের ধ্বংস করব এবং আমার যে-অস্তিত্ব সেটাকেই সর্বেসর্বা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব। এই একই ব্যাপার দেখতে পাওয়া যায় মার্ক্সবাদের মধ্যেও যখন লেনিন মার্কসবাদ নিয়ে লেখেন যে “মার্কসবাদ ইজ দ্য অমনিপোটেন্ট বিকজ ইট ইজ ট্রু”। অর্থাৎ মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান কারণ ইহা সত্য। এটা লেনিন বলছেন। যখন তিনি এই কথা বলছেন তখন তিনি সেই মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা করছেন। 

টি এস ইলিয়ট লিখেছিলেন, ‘আ হিপ অফ ব্রোকেন ইমেজেস’-এর কথা। আসলে হিরের বিভিন্ন তল যদি আমরা লক্ষ করি, তাহলে সেখানে একই ব্যক্তির নানান প্রতিবিম্ব দেখতে পাওয়া যায়। যে-কোনো এক বিশুদ্ধতাবাদী ব্যক্তির কাছে সমস্যাটি হল যে তাকে তো কোনো একটি প্রতিবিম্বকে ধরে চলতে হবে। আমি যদি তাকে প্রশ্ন করি, এই যে আপনি এই তলের প্রতিবিম্বটিকে সত্য বলছেন, তাহলে অন্য তলের প্রতিবিম্বটি যতই নিচু হোক না কেন বা যতই ভাঙাচোরা হোক না কেন, সেই প্রতিবিম্বটি যে অসত্য এই সিদ্ধান্তে আপনি কিভাবে আসছেন? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, সত্য সম্পর্কে একধরনের মৌলবাদী প্রবণতা কাজ করে মানুষের মধ্যে। অর্থাৎ তিনি যাকে তাঁর যুক্তিবিন্যাসের পরিকাঠামোয় সত্য বলে ভাবছেন তাকেই একমাত্র সত্য বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু তিনি যদি নিজে বলতেন যে এটি আমার ভাবনায় বা আমি যেভাবে ভাবছি তাঁর পরিপ্রেক্ষিতে সত্য, তাহলেই সমস্যাটি আর সমস্যা থাকতো না। কিন্তু যখন তাঁর ভাবনার সত্যকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করতে চান একটি সামাজিক সত্য হিসেবে এবং সেই সত্যটিকে ধরে জগতের সমস্ত কিছুকে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন, এবং অন্যরা যখন তাঁর বিপরীতে অন্য আরও নানান সত্যকে অবলম্বন করতে চান তখন সেই সমস্ত সত্যকে তিনি খণ্ডন করতে চান, সেখানেই হয়ে যায় মৌলবাদী বিপত্তি। সমস্যা হচ্ছে এই যে মৌলবাদী বিপত্তি তা একেবারেই মানবসমাজের অবদান এই মহাজগতে। এই মৌলবাদী বিপত্তির বিষয়টি মানবসমাজ ছাড়া এই মহাজগতের আর কোথাও নেই। অবশ্য এই মহাজগতের অন্য কোথাও এরকম কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কিনা আমরা জানি না। কিন্তু এমন তো হতেই পারে যে সেই বুদ্ধিমান প্রাণীর যুক্তিবিন্যাস এবং মনের গতিপ্রকৃতি মানবসমাজের  যুক্তিবিন্যাস এবং মনের গতিপ্রকৃতির থেকে পৃথক।  হলিউডে সমস্ত বুদ্ধিমান প্রাণী মানেই যেসব হিংস্র  প্রাণীদের দেখানো হয়, যারা লাফ দিয়ে মহাশূন্য থেকে চলে আসেন একটাই কারণে যে এখানকার মানুষদের তারা হত্যা করবেন, পুরো সভ্যতাটাকে তারা বিনষ্ট করবেন, ধ্বংস করবেন বন্য জন্তুর মতন, এই ন্যারেটিভটির কথা বলা হচ্ছে এখানে।  (মানে বন্য জন্তুরা আসলে খারাপ নয় কিন্তু তাদের যে হিংসা দেখানো হয় তা অদ্ভুত। এইরকম হিংসা কোনো বন্য জন্তুর নেই। এটি আসলে মানুষের মনের ভিতরকার ভায়োলেন্স যেটা এইসব ফিল্মের মাধ্যমে দেখানো হয়।) এইবার ধরা যাক, কোনো গ্রহে এমন কোনো বুদ্ধিমান প্রাণ পাওয়া গেল, যারা প্রত্যেকেই গৌতম বুদ্ধ বা সক্রেটিস বা যারা প্রত্যেকেই জ্ঞানের সন্ধানী। তা কি সম্ভব নয়? এখনো পর্যন্ত এমন একটাও ভিনগ্রহের প্রাণী হলিউডের চলচ্চিত্রগুলোতে বা পৃথিবীতে আসে নি যারা আমেরিকাকে আক্রমণ করেনি এবং যারা আমেরিকার মাধ্যমে গোটা পৃথিবীকে বিপন্ন করে নি। বলার কথা এই,  মানুষের ভিতরে এই যে তাদের সত্যকে প্রতিষ্ঠা করবার ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখা যায় তা কিন্তু মানবসভ্যতারই একটা দিক। প্রথম থেকেই হয়তো মানব সভ্যতার মধ্যে একটা বিষয় কাজ করেছে যেটা ডারউইন বলছেন “সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট”। এই সারভাইভালের মধ্যে একটা বিষয় হয়তো কাজ করে তাদের মধ্যে যে আমি বাকিদের ধ্বংস করব এবং আমার যে-অস্তিত্ব সেটাকেই সর্বেসর্বা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব। এই একই ব্যাপার দেখতে পাওয়া যায় মার্ক্সবাদের মধ্যেও যখন লেনিন মার্কসবাদ নিয়ে লেখেন যে “মার্কসবাদ ইজ দ্য অমনিপোটেন্ট বিকজ ইট ইজ ট্রু”। অর্থাৎ মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান কারণ ইহা সত্য। এটা লেনিন বলছেন। যখন তিনি এই কথা বলছেন তখন তিনি সেই মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা করছেন। 

“ভার্জিনিয়া” কবিতার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, টি. এস. এলিয়ট | বিবলিওক্লেপ্ট

মানুষের নিজস্ব ধর্মের জায়গা থেকে মানুষ তো প্রকৃতির বেশিরভাগ জিনিস অনুভবই করতে পারে না। সে যদি প্রকৃতিকে অনুভব করতেই না পারল তাহলে প্রকৃতির ধর্মকে সে অনুধাবনই বা কী করে করবে? সামান্য কিছু কিছু বিষয় মানুষ এখনো পর্যন্ত খুঁজে পাচ্ছে এবং তাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তার বাইরে রয়ে গেছে আরো অনেক অসামান্য জগৎ, যে-জগৎটাকে আমরা এখনো পর্যন্ত খুঁজে পাই নি।

এবার যে-প্রশ্নটি আসে সেটা হচ্ছে, এই মৌলবাদকে তো চিহ্নিত করেছিলেন অনেকে। কিন্তু চিহ্নিত যাঁরা করছেন আর চর্চা করছেন যাঁরা, যাঁরা তাকে অনুসরণ করছেন তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এবং মানব সমাজে মৌলবাদী মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। কেননা মৌলবাদী প্রবণতাটা আমাদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরেই লালিত। জীবনানন্দ দাশ যেভাবে লিখেছিলেন সৃষ্টির মনের কথা মনে হয় দ্বেষ। এই যে বিষয়,  জীবনানন্দ আসলে তার এই সমস্যার শিকড়ে পৌঁছতে চেয়েছেন।  ১৯৪৬-৪৭  কবিতায় যখন তিনি বলছেন “মানুষ মেরেছি আমি, তার রক্তে আমার হৃদয় ভরে গেছে/ পৃথিবীর প্রথম নিহত ভ্রাতার ভাই আমি” তখন এই আবহমান হিংসাকেই সংজ্ঞায়িত করবার চেষ্টা করেছিলেন। আর সেই সংজ্ঞায়িত করবার প্রচেষ্টায় তিনি চলে গেছেন আতোয়া আর্তর মতন সেই সূচনার স্তরে মানব মনের বৈচিত্র্যের জায়গায়, যে-সৃষ্টির মনের কথা মনে হয় দ্বেষ। সেখানেই তো আসলে সৃষ্টি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত, সৃষ্টি তো মহাজগতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তার কারণ মহাজগৎ প্রকৃতপক্ষে দ্বেষ, হিংসা ভালোবাসা পূর্ণতা অপূর্ণতা থেকে উর্ধ্বে। সে এক নির্লিপ্ত বিষয়। সৃষ্টি ও ধ্বংসের খেলায় সে নিয়ত প্রবহমান। কিন্তু তার এই যে নিয়ত প্রবহমান এবং নিয়ত জায়মান অবস্থা তার সঙ্গে কোথাও একটা বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়েছে আমাদেরই মানব সমাজে। আসলে বিচ্ছিন্নতা নেই কিন্তু মানব সমাজ নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ভাবছে অত্যন্ত নির্বোধ কোনো একটি মানুষের মতন যে কিনা একটি ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রেখে নিজেকে মনে করে সে নিরাপদ। সেইরকমভাবে সে-ই একটা সীমাবদ্ধ বৃত্তের ভেতরে থেকে ভাবছে সে শ্রেষ্ঠ, সে-ই মহাকাল, তার ধর্মই হচ্ছে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করা। এখন প্রকৃতিকে তো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না মানুষের ধর্ম। এবং মানুষের নিজস্ব ধর্ম বলতে এখানে প্রাকৃতিক ধর্মের কথা বলা হচ্ছে। মানুষের নিজস্ব ধর্মের জায়গা থেকে মানুষ তো প্রকৃতির বেশিরভাগ জিনিস অনুভবই করতে পারে না। সে যদি প্রকৃতিকে অনুভব করতেই না পারল তাহলে প্রকৃতির ধর্মকে সে অনুধাবনই বা কী করে করবে? সামান্য কিছু কিছু বিষয় মানুষ এখনো পর্যন্ত খুঁজে পাচ্ছে এবং তাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তার বাইরে রয়ে গেছে আরো অনেক অসামান্য জগৎ, যে-জগৎটাকে আমরা এখনো পর্যন্ত খুঁজে পাই নি। বিজ্ঞানে তো আর কিছু আবিষ্কার হয় না, বিজ্ঞানী খুঁজে পান। এটা ‘ডিসকভারি’, ‘ইনভেনশন’ নয়। ফলে, যা ছিল তাকেই খুঁজে পাওয়া।  আইনস্টাইনের শক্তি এবং ভরের সম্পর্কের সমীকরণ আবিষ্কার করার আগেই তো ফিশন এবং ফিউশন হয়েছে। ফলে আমরা এই মহাজগতে জন্মগ্রহণ করেছি। এবার তাকে খুঁজে পাওয়ার পালা।

অর্ধ-মিলিয়ন ডলারেরও বেশি দামে নিলামে বিক্রি হওয়া আইনস্টাইনের বেহালা | স্ট্রিংস ম্যাগাজিন

ধরি ধরি ধরতে পারি, ধরতে গেলে আর পারি না। আমার বাক্য মনের সে অতীত। যেমন একটি মশা বা একটি প্রজাপতি আরো অনেক মাত্রায় দেখতে পায় এবং বাটারফ্লাই কালার্স বলে ও বাটারফ্লাই ভিশন বলে তো একটি বিষয়ই আছে, যে তারা অনেক রকম রং দেখতে পায় যেটা কিন্তু আমরা পাই না। অর্থাৎ আমাদের এখানেই রয়ে গেছে অপারগতা, ব্যর্থতা। কিন্তু আমরা এই ব্যর্থতার কথাটাকে না বলে যতটুকু দেখতে পাই ততটুকু ভেবেই মনে করি জগতের অনেক কিছু ব্যাখ্যা করে ফেলেছি।

এরকম অনেক কিছু আছে যেগুলোকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। তো যেগুলোকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না সেগুলোর সামনে আমরা দাঁড়িয়ে যখন বলছি যে এগুলো ঈশ্বরের সৃষ্টি, তখন তা হয়ে যাচ্ছে আমার অপারগতা যে আমি তাকে বুঝতে পারছি না, খুঁজে পাচ্ছি না। ধরি ধরি ধরতে পারি, ধরতে গেলে আর পারি না। আমার বাক্য মনের সে অতীত। যেমন একটি মশা বা একটি প্রজাপতি আরো অনেক মাত্রায় দেখতে পায় এবং বাটারফ্লাই কালার্স বলে ও বাটারফ্লাই ভিশন বলে তো একটি বিষয়ই আছে, যে তারা অনেক রকম রং দেখতে পায় যেটা কিন্তু আমরা পাই না। অর্থাৎ আমাদের এখানেই রয়ে গেছে অপারগতা, ব্যর্থতা। কিন্তু আমরা এই ব্যর্থতার কথাটাকে না বলে যতটুকু দেখতে পাই ততটুকু ভেবেই মনে করি জগতের অনেক কিছু ব্যাখ্যা করে ফেলেছি। মূর্খের আস্ফালন ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের এই যাবতীয় কিছুর মধ্যে যেটুকু অংশ আমরা স্পর্শ করতে পারছি, সেটুকু অংশের মধ্যেই আমরা সত্যকে সংজ্ঞায়িত করতে চাইছি। এবং সেখানে বাকি যে রয়ে যাচ্ছে একটা বিশাল দীর্ঘ পরিমাণ অপারগতা এবং অপূর্ণতার জায়গা, তার দিকে হয়তো গৌতম বুদ্ধ চুপ করে তাকিয়ে থাকতেন বা আইনস্টাইন ভায়োলিন বাজাতেন। মুশকিল হচ্ছে যে আমি যেটুকু সত্য জানছি সেটুকু সত্য কি আমার সর্বশেষ সত্য বলে মনে করা উচিত? এর মধ্যে একটা প্রবল মুর্খামি আছে এবং জগতের সত্য একটাই আছে এটা বলার মধ্যেও চরম মুর্খামি আছে। কারণ আমার আধার খুব সংক্ষিপ্ত, ক্ষুদ্র। আমি সেই ক্ষুদ্র আধার নিয়ে এত বড় বিষয়কে ধারণ করতে অক্ষম।  তো বলতে পারি কী করে সত্য রয়েছে বা সত্য নেই? যেটুকু পাচ্ছি সেটুকু আমার কাছে মন্থন করে পাওয়া অমৃতের পাত্রের মতো বা গরলের পাত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ। তার অধিকার নিয়ে নিজেদের মধ্যে চলছে প্রবল মারামারি। এবং একে অপরকে হিংসা করার একটা প্রবল সংস্কৃতি। এবার সেই হিংসা কখনো ধর্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে কখনো রাষ্ট্রকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে কখনো পুঁজিবাদী দেশগুলোর পুঁজিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে, কখনো কোম্পানি কেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। নিজেদেরই নিজেদেরকে ধ্বংস করার একটি প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। যা হিটলার করেছিলেন যা মোদী করছেন এবং সঙ্গে মমতা করছেন। বা বলা যেতে পারে আমেরিকা করছে বা বলা যেতে পারে পুতিন করছেন। সমস্ত কিছুই হয়ে যাচ্ছে আত্মধ্বংসী একটি প্রবণতা। এবং এই আত্মধ্বংসের প্রবণতা তো দেখতেই পাওয়া যাচ্ছে আজকের প্রকৃতিতে। কেননা তুমি যদি আত্মধ্বংসের জন্য প্রকৃতিকে বিনষ্ট করো তাহলে প্রকৃতি কিন্তু নিজস্ব একটি ইমিউন সিস্টেম তৈরি করবে এবং প্রকৃতি কিন্তু তোমাকেই সব থেকে শত্রু ভাববে। আমাদের যদি ভাইরাস আসে শরীরে, আমরা তাহলে কী করি? সেই ভাইরাসটিকে দূরীকরণের চেষ্টা করি বা ব্যাকটেরিয়া যদি হয়, সেই ব্যাকটেরিয়াটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করি কারণ সে থাকলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। আজকে পৃথিবীর কাছে সম্ভবত মানুষ সেরকম ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া, যাদের জন্য এই পৃথিবীটাও ধ্বংস হতে চলেছে।

অর্থাৎ প্রথমত আমি সত্যকে বেঁধে ফেলছি। একটি সত্যকে শ্রেষ্ঠ বলছি, সেই সত্যকে নিয়ে মৌলবাদী হচ্ছি। তৃতীয়ত সেই সত্যকে মৌলবাদী অর্থে বেঁধে ফেলছে আরও অনেক মানুষ এবং তারা যখনই বেঁধে ফেলছে সেই বেঁধে ফেলার বিষয়গুলি নিয়ে তারা নিজেদেরকে আক্রমণ করছে এবং প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে। এরকম একটা অদ্ভুত অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে আমরা কী করব? এটা আমাদের কাছে একটা ধাঁধা। তো ফলে এই ধাঁধার উত্তর খোঁজার দায়িত্ব আমাদেরই।

পৃথিবীও হয়তো চেষ্টা করছে মানুষকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়ে আবার একটি শান্ত পৃথিবী তৈরি করবার কথা। তার কারণ মানুষ নিজেকে বিপন্ন করার পাশাপাশি এই প্রকৃতিকেও ধ্বংস করছে। একটা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, পাহাড়ে ধ্স নামছে, উষ্ণায়ন হচ্ছে, বরফ গলে পড়ছে। মানুষ মানুষকে কাটছে। সব মিশিয়ে সব মিলিয়ে প্রত্যেকটা মানুষ এক একজন ভূত হয়ে যাবে না। আসলে প্রত্যেকটা মানুষ এক একজন ভূতই। বিদেশি ছবির মতো জোম্বি হয়েই আমরা ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সেটা বাইরের আচরণ বিধি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জোম্বির মত নয়। তাই বলে কি সে জোম্বি নয়? গোটা মানব প্রজাতিই তো এখন জোম্বি! আমরা একটি ডিস্টোপিয়ায় বেঁচে আছি । এই ডিস্টোপিয়াকে আমরা চিহ্নিত করতে পারছি না, কিন্তু তা চলছে। জীবনানন্দ বলছেন লীন হয়ে গেলে তারা তো তখন মৃত। মৃতরা পৃথিবীতে ফেরে না কখনো। মৃতরা কোথাও নেই, আছে? কোন কোন অঘ্রাণের অন্ধকারে হেঁটে যাওয়া শান্ত মানুষের হৃদয়ের পথে ছাড়া মৃতরা কোথাও নেই বলে মনে হয়। তারপর উনি একটা অদ্ভুত জায়গায় যাচ্ছেন তাহলে মৃত্যুর আগে আলো অন্ন আকাশ নারী কি কিছুটা সুস্থিরভাবে পেলে ভালো হতো? অর্থাৎ এই মৃত্যু নিঃশেষিত হয়ে যাওয়ার যে-দর্শন একটি ভোগবাদী সমাজের মধ্যে যখন চলে আসে, যখন সে বোঝে এভাবে চলতে গেলে সৃষ্টির মনের কথা মনে হয় দ্বেষ। এভাবেই চলতে গেলে তো আমি একদিন এরকমভাবে মৃত ও বিস্মৃত হব এবং আমাকে ছুড়ে ফেলে দেবে মানুষজন, আমি সম্পূর্ণভাবে বিস্মৃত হব, তখন আমি কেন আমার ইন্দ্রিয় পরিতৃপ্তির জগতে যাব না? এই প্রশ্নের উত্তর তিনি দিয়েছেন অন্য একটি দার্শনিক অভিপ্সায় কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর কি সঠিকভাবে মানুষের কাছে আছে? হয়তো নেই বলেই গোটা পৃথিবীতে এখন মানসিক নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। একটা আত্মিক নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে, একটা আধ্যাত্মিক নৈরাজ্য যেখানে আধ্যাত্মিকতাটা আধ্যাত্মিকতার নামে নেই। আধ্যাত্মিকতার কোনো অর্থও নেই। সেই আধ্যাত্মিকতার নাম হয়ে যাচ্ছে আধ্যাত্মিকতার অর্থ হয়ে যাচ্ছে ধর্মীয় সন্ত্রাস। অর্থাৎ প্রথমত আমি সত্যকে বেঁধে ফেলছি। একটি সত্যকে শ্রেষ্ঠ বলছি, সেই সত্যকে নিয়ে মৌলবাদী হচ্ছি। তৃতীয়ত সেই সত্যকে মৌলবাদী অর্থে বেঁধে ফেলছে আরও অনেক মানুষ এবং তারা যখনই বেঁধে ফেলছে সেই বেঁধে ফেলার বিষয়গুলি নিয়ে তারা নিজেদেরকে আক্রমণ করছে এবং প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে। এরকম একটা অদ্ভুত অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে আমরা কী করব? এটা আমাদের কাছে একটা ধাঁধা। তো ফলে এই ধাঁধার উত্তর খোঁজার দায়িত্ব আমাদেরই। কিন্তু সেই উত্তর হয়তো খুঁজে পাবেন খুবই অল্প সংখ্যক মানুষ যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে কিছুই দিতে পারবেন না।

কোনো ধারণাকে প্রতিষ্ঠার যে মৌলবাদী প্রবণতা তা মহাজগৎ বা মহাপ্রকৃতির নেই। মহাজগৎ বা মহাপ্রকৃতির মধ্যে একধরনের ‘অল ইনক্লুসিভ’ প্রবণতা থাকে কিন্তু মানব সমাজের মধ্যে যেটা থাকে সেটা হচ্ছে ‘এক্সক্লুসিভ’ প্রবণতা।

আসলে এই ভাবনাগুলো এসেছিল প্রথমত বিন্দু থেকে। সমস্ত কিছু বিন্দু থেকে আসে। কিন্তু প্রশ্ন হলো সত্য নিয়ে মানুষের যে ভাবনা সেই ভাবনা কি বিন্দুর মধ্যে রয়েছে? মানুষ ভাবে যে সমস্ত ভাবনাই হয়তো বিন্দু থেকে আসে অথবা সমস্ত সত্য সংক্রান্ত ভাবনাই হয়তো বিন্দুর মধ্যে নিহিত থাকে। কিন্তু সেই বিন্দু যদি সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া বিন্দু হয় তবে তার মধ্যে এই মৌলবাদী প্রবণতাটি আসতে পারে না। অর্থাৎ আমি এটা খুব জোরের সঙ্গে বলতে চাইছি যে, কোনো ধারণাকে প্রতিষ্ঠার যে মৌলবাদী প্রবণতা তা মহাজগৎ বা মহাপ্রকৃতির নেই। মহাজগৎ বা মহাপ্রকৃতির মধ্যে একধরনের ‘অল ইনক্লুসিভ’ প্রবণতা থাকে কিন্তু মানব সমাজের মধ্যে যেটা থাকে সেটা হচ্ছে ‘এক্সক্লুসিভ’ প্রবণতা।

যেমন রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন ইলিশ মাছের টক, ইলিশ মাছের পাতুরি, ইলিশ মাছের ভাপা, ইলিশ মাছ ভাজা সবই তো আসলে ইলিশ মাছ। সেরকমভাবেই আমরা যদি ভাবি ফ্যাসিবাদ, মৌলবাদ, সমাজতন্ত্র, গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং, রবীন্দ্রনাথ সমস্ত কিছুই সেখানের মধ্যে পড়ে। এই যে বিশাল মহাজাগতিক অনন্ত এমন কী শূন্যতাও, এই অনন্তের মধ্যে বিলীন।

কিন্তু এখানে একটা দ্বান্দ্বিক পরিসর আছে। সেটি হচ্ছে বিন্দু তো অনন্ত। বিন্দু যদি অনন্ত হয় তাহলে সেই অনন্তের মধ্যে গাছপালা, পাখি, সত্য, মিথ্যা, দ্বন্দ্ব, অদ্বৈত, দ্বৈত সমস্ত কিছুই পড়ে। যেমন রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন ইলিশ মাছের টক, ইলিশ মাছের পাতুরি, ইলিশ মাছের ভাপা, ইলিশ মাছ ভাজা সবই তো আসলে ইলিশ মাছ। সেরকমভাবেই আমরা যদি ভাবি ফ্যাসিবাদ, মৌলবাদ, সমাজতন্ত্র, গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং, রবীন্দ্রনাথ সমস্ত কিছুই সেখানের মধ্যে পড়ে। এই যে বিশাল মহাজাগতিক অনন্ত এমন কী শূন্যতাও, এই অনন্তের মধ্যে বিলীন। তার মানে বিন্দুর মধ্যে সর্বসত্যকে অর্থাৎ সব রকমের সত্যকে ধারণ করার একটা প্রবৃত্তি দেখা যাচ্ছে কেননা বিন্দু কিন্তু শুধুমাত্র বিন্দু নয়, বিন্দু কিন্তু অনন্ত। আমাদের কাছে বিন্দুটি বিন্দু কারণ আমরা বিন্দুকে বিন্দুর মতন করে ভাবছি। কিন্তু সেই বিন্দুটি যে আসলে বিন্দু নয় সেটা আমরা বুঝতেই পারছি না। হয়তো সেটা বুঝতে পারছে আমাদের থেকেও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিন্দুর থেকেও বিন্দু সদৃশ একটি অস্তিত্ব এবং তার কাছে বিন্দু হচ্ছে একটি নক্ষত্র। অথবা হয়তো এই সমস্ত অনন্ত সমগ্র মহাজগত একটি বিন্দু যার ভিতরে আমরা ঘুরে বেড়াচ্ছি। বিন্দুও তার মানে কোথাও একটা আধার যে-আধারের মধ্যে আমাদের অবস্থান। ঠিক, এটা অবশ্যই আমার ভাবনা কিন্তু এই ভাবনার মধ্যে কিছু কিছু দ্বন্দ্বও আমি টের পাই। যদি তার মানে এই শূন্যকে আধার হিসেবে ভাবা বা শূন্যকে আমি যদি আধার হিসেবে ভাবি, শূন্য তো বিন্দু নয়। শূন্য বিন্দু নয় কিন্তু বিন্দু শূন্য হতে পারে। সুতরাং বিন্দু যদি শূন্য হয়, তাহলে সেই শূন্য সমস্ত অপূর্ণ যে বৃহৎ , তার  অবিচ্ছিন্ন অংশ অর্থাৎ এর সঙ্গে অর্ধনারীশ্বরের মতো যুক্ত। শূন্য ছাড়া কোনোকিছুর অস্তিত্ব সম্ভব নয়, বিন্দু ছাড়া কোনো লেখা সম্ভব নয়। সে-লেখা সরলরৈখিক হোক বা বক্ররৈখিক হোক অর্থাৎ বিন্দু ছাড়া অনন্ত সম্ভব নয়। কিন্তু অনন্ত বিন্দু নয়। এবার এখানে এসে ভাবনাটা খুব স্বাভাবিকভাবেই অসুবিধার মধ্যে পড়ে যায়। এর অর্থ এই যে, পৃথিবীর একজন মানুষ হিসেবে আমি আসলে এই মহাজগতকে কল্পনাই করতে পারছি না।

এবং সেইমতো আমাদের সমস্তটাই যদি মোমেন্টারি ফ্লাশ হয় তাহলে সেই মোমেন্টারি ফ্লাশের মোমেন্টগুলো কিন্তু আমাদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন। এই মুহূর্তটি হয়তো একটি মাছের কাছে অনন্ত, হয়তো আমার কাছেও অনন্ত, হয়তো সৌরজগতের কাছেও তাই এবং এই গ্যালাক্সির কাছেও হয়তো অনন্য । কিন্তু এই মুহূর্তে একটা ফুল ফুটল, সেটা তো একটা জায়গাতেই হল না।

তার খণ্ড খণ্ড দিকের কথা আমি ভাবছি কিন্তু মহাজগতকে কল্পনা করা আমার সাধ্যের বাইরে থাকছে। আবার এটাও সত্যি যখন গাছের একটি পাতা জন্মায় বা একটি ফুল জন্ম নিল, তার মধ্যে দিয়ে মহাজগত প্রসারিত হল। প্রসারণ তো শুধু মহাজগতের বাইরের যে রূপ তার হচ্ছে না। প্রসারণে এই জগৎ আনমেনিফেস্টেডকে মেনিফেস্টেড করছে অর্থাৎ বিন্দু থেকে এই জগৎ অনন্তে প্রসারিত হচ্ছে বা অনন্ত থেকে অনন্তে প্রসারিত হচ্ছে। এবার সেই অনন্ত প্রসারণের মধ্যে একটি মুহূর্ত একটি ফুলের আত্মপ্রকাশ।  একটি মুহূর্ত একটি শিশুর জন্ম। একটি মুহূর্ত একজন মানুষের মৃত্যু। একেকটি মুহূর্ত এখানে জীবনের। এই শ্বাস ফেললাম, এই শব্দটি উচ্চারণ করলাম, মহাজগতের বিস্তৃতি। এর আগে মহাজগতের কাছে হয়তো কোনো অতীত ছিল না, মহাজগতের কাছে কোনো ভবিষ্যৎও নেই। মহাজগতের কাছে এই মুহূর্তটাই রয়েছে কিন্তু মহাজগৎ তার সমস্ত অতীত সম্পর্কে বিস্মৃত হয়ে যাচ্ছে, মহাজগৎ তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও কিছু জানে না। কিন্তু মহাজগৎ শুধু নিজেকে প্রকাশিত করছে। একটা সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত অনস্তিত্ব থেকে মহাজগৎ নিজেকে প্রকাশিত করছে। এবার এই যে সে প্রকাশিত হল, তার পরের মুহূর্তেই সে-প্রকাশের কোনো ইতিহাস আর থাকল না।  তারপর আবার সে নিজেকে প্রকাশিত করল। আমি যে এই কথাগুলো বললাম, এগুলো সম্পূর্ণ আমার বানানো কথা নয়। এই কথাটাই বলছেন বিখ্যাত পদার্থবিদ রজার পেনরোজ তাঁর Cycles of Time বইতে। এটা পড়ার পর আমি খুব স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম এই ভেবে যে তাই যদি হয়, এবং সেইমতো আমাদের সমস্তটাই যদি মোমেন্টারি ফ্লাশ হয় তাহলে সেই মোমেন্টারি ফ্লাশের মোমেন্টগুলো কিন্তু আমাদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন। এই মুহূর্তটি হয়তো একটি মাছের কাছে অনন্ত, হয়তো আমার কাছেও অনন্ত, হয়তো সৌরজগতের কাছেও তাই এবং এই গ্যালাক্সির কাছেও হয়তো অনন্য । কিন্তু এই মুহূর্তে একটা ফুল ফুটল, সেটা তো একটা জায়গাতেই হল না। একটা জায়গায় যদি দুপাশে দুই বক্ররেখা তৈরি করি এবং এরকম অসংখ্য রেখা তৈরি করে যদি আমি দেখি তাহলে সবকটা রেখাই বিভিন্ন দিকে অন্তকালের জন্য চলতে শুরু করবে। এই অনন্তকে আমি হয়তো ব্যাখ্যা করতে পারছি না বা হয়তো অনন্তকে কোনো সংখ্যাতত্ত্বের মধ্যে ফেলতে পারছি না।  তাকে আমাকে অনন্তই বলতে হচ্ছে। অর্থাৎ এই যে প্রসারণ হচ্ছে অর্থাৎ এখানে একটি ফুল ফোটার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় বাছুরের জন্ম হল, তার মধ্য দিয়েও হচ্ছে বা আফ্রিকায় কোনো একজন কবির কবিতা তৈরি হচ্ছে বা কোনো একজন পর্যটকের পদক্ষেপের মধ্যে দিয়েও হতে পারে। এবার আমরা যদি নিজেদের বিচ্ছিন্নভাবে না ভাবি এবং ধরে নিই যে আমরা যা করছি তা এই মহাজগতের আত্মবিস্তারের একটি অংশ হিসেবেই করছি, তাহলে  নিজেদের জীবন এবং সৃষ্টিকেও অনেক বড় একটি প্রবাহের অন্তর্গত হিসেবে ভাবা যেতে পারে।

রাইজিং স্টার গুহার খোদাইচিত্র — প্রথম পর্ব: পাতাললোক | বিফোর ওরায়ন

পরবর্তীকালে বিভিন্ন যুগে মানুষের যে শিল্প, যে ছবি আঁকা বা যে লিপি তার মধ্যেও কি সেই লক্ষ লক্ষ বছর আগেকার স্মৃতি নেই? বা, কিছুই কি তবে অতীত হচ্ছে না? অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ তিন মহাবিশ্বের মতো পাশাপাশি চলছে?

সুতরাং, আমি আবার তাকাই শিল্পের দিকে। ২০১৮ সালে আবিষ্কৃত হোমো নিলেডি নামক মানুষ নয় অথচ মানুষের বহু পূর্বের মানুষের হাড়গোড়ের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে আফ্রিকার এক গুহার ভিতরে। তাঁরা কবর দিতেন সেই গুহায়। ৩০ লক্ষ বছর আগের মানুষ, যখন আমাদের মানব বিবর্তন শুরুই হয় নি, সেই গুহার ভিতরে এমনভাবে পাথর দিয়ে আঁচড় কাটার নমুনা পাওয়া গেছে যা চিত্রেরই মতো। পরবর্তীকালে ৮০ হাজার বছর আগেকার কোনো গুহাচিত্রে যে প্রকারের আঁচড় দেখা গেছে, তা হোমো নিলেডিদের আঁচড়ের মতোই প্রায়। অথচ এই দুই মানব ও মানবসদৃশের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। বা, হয়তো কোনো যোগাযোগ রয়েছে, যা আমাদের আবিষ্কার করা হয় নি। পরবর্তীকালে বিভিন্ন যুগে মানুষের যে শিল্প, যে ছবি আঁকা বা যে লিপি তার মধ্যেও কি সেই লক্ষ লক্ষ বছর আগেকার স্মৃতি নেই? বা, কিছুই কি তবে অতীত হচ্ছে না? অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ তিন মহাবিশ্বের মতো পাশাপাশি চলছে?

এরপরেও হয়তো অনেক ভাবনা থাকে, তবে সেটা এর পরবর্তী কোনো লেখায় আসুক। আপাতত এই লেখার এখানেই সমাপ্তি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে